পায়ের ধমনী বন্ধ হয়ে যাওয়া ও ডায়াবেটিক ফুটের ঘা: সিঙ্গাপুরে পরীক্ষা ও মিনিম্যালি ইনভেসিভ চিকিৎসা

হাঁটলে পায়ে ব্যথা, না-শুকানো ঘা, বা পায়ের আঙুল কালো হয়ে যাওয়া রক্ত চলাচল কমে যাওয়ার লক্ষণ হতে পারে। রক্ত চলাচলের পরীক্ষাই পরবর্তী ধাপ ঠিক করে, আর অনেক ব্লক এখন রক্তনালীর ভেতর থেকেই খোলা যায়।

পেরিফেরাল আর্টারিয়াল ডিজিজ (PAD) হলো পায়ে রক্ত বহনকারী ধমনী সরু বা বন্ধ হয়ে যাওয়া, সাধারণত চর্বি জমে (atherosclerosis)। ডায়াবেটিস রোগী, ধূমপায়ী, উচ্চ রক্তচাপ, উচ্চ কোলেস্টেরল ও কিডনি রোগীদের মধ্যে এটি খুব সাধারণ। ডায়াবেটিসে রক্ত চলাচল কমে যাওয়ার সঙ্গে পায়ের স্নায়ুর অনুভূতি কমে গেলে ছোট ক্ষতও সহজে না-শুকানো ঘায়ে পরিণত হতে পারে।

যেসব লক্ষণে পরীক্ষা করানো উচিত

  • হাঁটার সময় পায়ের ডিম, ঊরু বা নিতম্বে ব্যথা বা খিঁচুনি, যা থামলে কমে যায় (claudication)।
  • রাতে শুয়ে থাকলে পা বা আঙুলে ব্যথা, যা পা নিচে ঝুলিয়ে দিলে কমে।
  • পা বা আঙুলের ঘা, যা দুই-তিন সপ্তাহেও শুকাচ্ছে না।
  • পায়ের আঙুল নীলচে, ফ্যাকাশে বা কালো হয়ে যাওয়া।
  • পা ঠান্ডা লাগা, ত্বক চকচকে হয়ে যাওয়া, বা পায়ের লোম কমে যাওয়া।

পরীক্ষা: আগে রক্ত চলাচল দেখুন

সবচেয়ে জরুরি ধাপ হলো রক্ত চলাচলের পরীক্ষা। ডা. Choong-এর ভাস্কুলার ল্যাবে গোড়ালি ও বাহুর রক্তচাপের তুলনা (ABI) এবং ধমনীর ডপলার আলট্রাসাউন্ড করা হয়, যাতে দেখা যায় সরু বা বন্ধ হওয়া জায়গা কোথায় এবং কতটা গুরুতর। দরকার হলে CT অ্যাঞ্জিওগ্রাফি চিকিৎসার পরিকল্পনায় সাহায্য করে। না-শুকানো প্রতিটি ডায়াবেটিক ফুটের ঘায়ে রক্ত চলাচল পরীক্ষা করা উচিত, কারণ রক্ত না পৌঁছালে শুধু ড্রেসিং দিয়ে ঘা শুকানো যায় না।

চিকিৎসা

  • ঝুঁকি নিয়ন্ত্রণ। ধূমপান ত্যাগ, রক্তে শর্করা, রক্তচাপ ও কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণ, আর হার্ট ও রক্তনালী রক্ষায় উপযুক্ত ওষুধ।
  • হাঁটার ব্যায়াম। হাঁটলে ব্যথার ক্ষেত্রে নিয়মিত হাঁটার অনুশীলন প্রায়ই হাঁটার দূরত্ব বাড়াতে সাহায্য করে।
  • এন্ডোভাস্কুলার (মিনিম্যালি ইনভেসিভ) চিকিৎসা। রক্তনালীতে ছোট একটি ছিদ্রের মাধ্যমে, প্রায়ই শুধু লোকাল অ্যানেস্থেশিয়ায়, বেলুন অ্যাঞ্জিওপ্লাস্টি এবং দরকার হলে স্টেন্ট দিয়ে ভেতর থেকে সরু বা বন্ধ অংশ খোলা হয়। বেশিরভাগ রোগীর জন্য এটিই ডা. Choong-এর প্রধান পদ্ধতি।
  • সার্জারি রাখা হয় কিছু নির্দিষ্ট ক্ষেত্রের জন্য, যেখানে এন্ডোভাস্কুলার চিকিৎসা উপযুক্ত নয়।

ডায়াবেটিক ফুটের ঘায়ে রক্ত চলাচল খোলার পাশাপাশি ঘায়ের যত্ন, সংক্রমণের চিকিৎসা ও ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ একসঙ্গে চলে। লক্ষ্য ঘা শুকাতে সাহায্য করা এবং পা রক্ষা করা।

বাংলাদেশ থেকে আসা

ঘায়ের ছবি, থাকলে আলট্রাসাউন্ড বা CT অ্যাঞ্জিওগ্রাফির ফলাফল, রক্ত পরীক্ষা (রক্তে শর্করা ও কিডনির কার্যকারিতাসহ), ওষুধের তালিকা ও আপনার ডাক্তারের চিঠি পাঠান। পর্যালোচনার পর ক্লিনিক জানাবে কোন পরীক্ষাগুলো লাগবে এবং সিঙ্গাপুরে আনুমানিক কত দিন থাকতে হবে। দেখুন সিঙ্গাপুরে আসার নির্দেশিকা।

প্রায়ই জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন

আমার ডায়াবেটিক ফুটের ঘায়ে কি রক্তনালীর পরীক্ষা দরকার?

হ্যাঁ, বিশেষ করে ঘা দুই-তিন সপ্তাহে না শুকালে। ডায়াবেটিক ফুটের ঘায়ের সঙ্গে প্রায়ই রক্ত চলাচল কম থাকে, আর যথেষ্ট রক্ত ছাড়া ভালো যত্ন নিলেও ঘা শুকাতে চায় না।

পায়ের ধমনী বন্ধ হলে কি সব সময় অপারেশন লাগে?

না। অনেক রোগী ঝুঁকি নিয়ন্ত্রণ, ওষুধ ও হাঁটার ব্যায়ামে ভালো থাকেন। চিকিৎসা দরকার হলে বেশিরভাগ ব্লক এখন ছোট একটি ছিদ্রের মাধ্যমে বেলুন অ্যাঞ্জিওপ্লাস্টি বা স্টেন্ট দিয়ে খোলা যায়, বড় কাটা ছাড়াই।

পায়ের অ্যাঞ্জিওপ্লাস্টি কি জেনারেল অ্যানেস্থেশিয়ায় হয়?

প্রায়ই না। অনেক অ্যাঞ্জিওপ্লাস্টি ও স্টেন্ট লোকাল অ্যানেস্থেশিয়ায় হয়, কখনো হালকা ঘুমের ওষুধসহ। অ্যানেস্থেশিয়ার ধরন চিকিৎসা ও আপনার অবস্থা অনুযায়ী ঠিক হয়।

কখন সঙ্গে সঙ্গে জরুরি বিভাগে যেতে হবে?

পা হঠাৎ ঠান্ডা, ফ্যাকাশে, তীব্র ব্যথাযুক্ত বা অবশ হয়ে গেলে তা জরুরি অবস্থা। পায়ের ঘায়ের সঙ্গে ছড়িয়ে পড়া লালচে ভাব, ফোলা, পুঁজ, দুর্গন্ধ, জ্বর, বা আঙুল কালো হয়ে যাওয়াও দ্রুত দেখানো দরকার।

ডা. Choong-এর সঙ্গে যোগাযোগ

সরাসরি ডা. Choong-কে মেসেজ পাঠান। অপারেশনে না থাকলে তিনি সাধারণত এক ঘণ্টার মধ্যে WhatsApp মেসেজের উত্তর দেওয়ার চেষ্টা করেন; গভীর রাতে পাঠানো মেসেজের উত্তর পরদিন সকালে। ইমেইলের উত্তর একই দিনে। আপনি কোন শহরে থাকেন, আপনার রোগ কী (এক-দুই লাইনে) আর কখন আসতে পারবেন, তা লিখুন। স্ক্যান বা রিপোর্ট প্রকাশ্য মন্তব্যে পাঠাবেন না; ক্লিনিক টিম নিরাপদে পাঠানোর উপায় জানিয়ে দেবে। ডা. Choong অপারেশনে থাকলে ক্লিনিক টিম (+65 9376 8688) উত্তর দেবে।

হঠাৎ তীব্র বুকে, পিঠে বা পেটে ব্যথা, অজ্ঞান হয়ে যাওয়া, হঠাৎ শ্বাসকষ্ট, স্ট্রোকের লক্ষণ, কিংবা পা হঠাৎ ঠান্ডা, ফ্যাকাশে বা অবশ হয়ে যাওয়া জরুরি অবস্থা। আপনি যেখানে আছেন সেখানেই সঙ্গে সঙ্গে জরুরি চিকিৎসা নিন (বাংলাদেশে জাতীয় জরুরি নম্বর ৯৯৯)। মেসেজের উত্তরের জন্য অপেক্ষা করবেন না, আর জরুরি অবস্থার চিকিৎসা না করিয়ে ভ্রমণ করবেন না।

এই পাতায় সাধারণ তথ্য দেওয়া হয়েছে; এটি ব্যক্তিগত পরামর্শের বিকল্প নয়। পরামর্শ ইংরেজিতে হয়; আগে জানালে হাসপাতালের মাধ্যমে বাংলা দোভাষীর ব্যবস্থা করা যেতে পারে। ইংরেজি সংস্করণ পড়ুন ›